এবনে গোলাম সামাদ Abney Golam Samad

আমার কর্মজীবনের অধিকাংশই কেটেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করে। কিন্তু বিষয়টা ছিল উদ্ভিদবিদ্যা; শিল্পকলার ইতিহাস নয়। কিশোর বয়সে ইচ্ছা ছিল শিল্পী হবার। কিন্তু পরে সে ইচ্ছা আর বজায় থাকেনি। তবে পরবর্তী জীবনে শিল্পকর্ম দেখে আর শিল্পকলার ইতিহাস পড়ে খুব তৃপ্তি পেয়েছি।

জন্মেছিলাম রাজশাহী শহরে। স্কুল ফাইনাল সার্টিফিকেট অনুসারে ১৯৩৩। পড়াশোনা প্রথমে করি রাজশাহীতেই। পরে ঢাকায়। তারপরে বছরখানেক বিলাতে। এরপর ফ্রান্সে চারবছর। এসব পড়াশোনার সঙ্গে শিল্পকলার কোনো যোগ নেই। ঘরে পড়েছি শিল্পকলার ইতিহাস। শিল্পকলার ইতিহাস হয়েছে আমার সময় কাটাবার সাথী। বিভিন্ন মিউজিয়ামে রক্ষিত অনেক শিল্পকর্ম আমি দেখেছি। মিশরে, কিছুক্ষণের জন্য ঢুকেছি ‘ফারাও খুফুর’ পিরামিডে। যার নির্মাণকাল আনুমানিক খৃষ্টপূর্ব ৩০০০ অব্দ। এইসব টুকরো অভিজ্ঞতারও ছাপ আছে এই বইটিতে। শিল্পকলার ইতিহাস জ্ঞান, শিল্পকর্ম দেখে আনন্দ পেতে সাহায্য করে। আমাকেও করেছে। অন্যদিকে, যাকে বলে নিসর্গচিত্র (Landscape), তাতে গাছপালা থাকে। যাকে বলে নকসা (Decoration), তাতে থাকে ফুল লতাপাতা নানা উদ্ভিদীয় পরিকল্পনা। শিল্পকলার ক্ষেত্রে উদ্ভিদ জগতের একটা প্রভাব আছে। আমার উদ্ভিদ বিদ্যার পরিচয় অনেক সময় শিল্পকলা উপভোগে সহায়ক হয়েছে। কোনো ধারার সৃষ্টি করেনি। শিল্পকলার ইতিহাস পড়া ছাড়াও আমি আমার অবসর সময়ে পড়েছিলাম নৃতত্ত্ব (Anthropology)। পাঁরি-তে নৃতত্ত্বের জ্ঞানও আমাকে শিল্পকলার ইতিহাস অনুশীলনে যথেষ্ট সাহায্য করেছে। সাধারণভাবে সহায়ক হয়েছে মানুষ ও তার কর্মতৎপরতাকে উপলব্ধির কাজে। মানুষকে প্রকৃতিবাদী (Naturalistic) দৃষ্টিভঙ্গিতে বিচারে। ইংরেজি প্রবচনে বলে “Give instruction to a wise man and he will be yet wiser” (জ্ঞানী ব্যক্তিকে জ্ঞান দান করলে সে আরও জ্ঞানী হয়)। কিন্তু এই বই কোনো জ্ঞানী ব্যক্তিকে আরও জ্ঞানী করে তুলবার অভিপ্রায় নিয়ে লেখা হয়নি। বর্তমান বইটি লেখা হয়েছে কেবল তাঁদের কথা ভেবে, যাঁরা শিল্পকলা দেখে আনন্দ পেতে চান—আমারই মতো, অবসর সময়ে। ছোট ছেলেরা কিছু দেখলে, মাকে ডেকে বলে, ‘মা দেখো’। মানুষ কেবল নিজে দেখে খুশি হয় না। সে অন্তত যখন ছেলেমানুষ থাকে, নিজের দেখার আনন্দকে অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চায়। অনেকে মনের দিক থেকে সারাজীবন থেকে যায় বেশি কিছুটা ছেলেমানুষ হয়ে। এরা বই লেখে নিজের অভিজ্ঞতাকে অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নিয়ে আরও আনন্দ পাবারই ইচ্ছায়। বর্তমান বইটি এরকম একটা এষণারই প্রকাশ। সেভাবেই গ্রহণ করতে হবে।